ডেইলি প্রেস ডেস্ক: সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। স্বল্প সময়ের মধ্যে নানা খাতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ায় জনমনে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্প সফলভাবে শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবার এই কার্ড পেয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ১০ জেলার ২২ হাজারের বেশি কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
কৃষি খাতে বড় স্বস্তি এসেছে ঋণ মওকুফের মাধ্যমে। প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
সংসদীয় কার্যক্রমেও নজির স্থাপন করেছে সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ পুনরায় বিল আকারে সংসদে তোলা হবে।
দেশের নদী ও জলাশয় পুনরুদ্ধারে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০ হাজার কিলোমিটার নদী–খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় কাজ শুরু হয়েছে।
জ্বালানি খাতে স্বস্তি ধরে রেখেছে সরকার। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রুফটপ সোলার কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণেও সরকার সফলতা দেখিয়েছে। রমজানসহ চলমান সময়েও বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ধর্মীয় খাতে ভাতা কার্যক্রমও চালু রয়েছে। মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার ধর্মীয় নেতারা নিয়মিত সম্মানি পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
কর্মসংস্থান ও শিল্প খাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ কারখানা চালু, ইকোনমিক জোন সক্রিয় করা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শূন্যপদ পূরণে ৪ লাখ ৬৮ হাজার পদের জন্য কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শ্রম খাতে স্বস্তির খবর এসেছে। ঈদের আগে সব শ্রমিক বেতন ও বোনাস পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পর শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়নি।
প্রবাসী খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে। নতুন বাজার খুঁজতে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতে ভর্তি ফি বাতিল, বৃত্তি বৃদ্ধি এবং আধুনিক পদ্ধতিতে ভর্তি চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ডিজিটাল সেবা বাড়ানো হয়েছে ভূমি ও প্রশাসনে। অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দুর্নীতি কমাতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃক্ষরোপণ, নদী রক্ষা এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি ব্যয় কমাতেও নজির স্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন। ভিভিআইপি প্রটোকল কমানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে দুই মাসেই নানা খাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিএনপি সরকার একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় নতুন গতি আসবে।