1. masidrono@gmail.com : মন রহমান : মন রহমান
  2. admin@dailypressbd.com : নিজস্ব প্রতিনিধি : নিজস্ব প্রতিনিধি
  3. entertainment@dailypressbd.com : বিনোদন প্রতিবেদক : বিনোদন প্রতিবেদক
  4. international@dailypressbd.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  5. tusherhk@gmail.com : রাহাত তুষার : রাহাত তুষার
  6. national@dailypressbd.com : বাংলাদেশ ডেস্ক : বাংলাদেশ ডেস্ক
  7. sports@dailypressbd.com : ক্রীড়া ডেস্ক : ক্রীড়া ডেস্ক
  8. shuvo5566@yahoo.com : তুর্য রহমান : তুর্য রহমান
বর্ষা এলেই পাহাড় ধসে প্রাণহানি - DAILY PRESS
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

বর্ষা এলেই পাহাড় ধসে প্রাণহানি

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে
landslide
পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। ছবি: ডেইলি প্রেস

তুর্য রহমান, চট্টগ্রাম থেকে ফিরে: বর্ষা শুরু হলেই দেশের পাহাড়ি এলাকায় বাড়ে আতঙ্ক। টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রায় প্রতি বছরই প্রাণহানি ঘটে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও সিলেটের পাহাড়ি এলাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মানুষের অসচেতনতাও এই দুর্যোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। কার্যকর পরিকল্পনা ও কঠোর নজরদারি থাকলে প্রতিবছরের প্রাণহানি অনেক কমানো সম্ভব।

পাহাড় ধস এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই দেশের কোথাও না কোথাও এই দুর্ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরও টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের ঘটনায় সিলেটে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে শত শত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয় এবং হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুলাই মাসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ পাহাড় ধসে অন্তত আটজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। টানা বর্ষণে পাহাড়ের ঢাল ধসে পড়লে কয়েকটি বসতি মাটিচাপা পড়ে। পরে আরও কয়েক হাজার মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অন্তত ২০৪টি বড় পাহাড় ধসের ঘটনায় ৭২৭ জনের মৃত্যু এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার প্রায় ৮৩ শতাংশই ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ঘটেছে। প্রতিবছর গড়ে ১৯টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এরপরও ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও সিলেটে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে আরও বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং হাজারো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও পাহাড় ধসের ঝুঁকি কমেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১৭ সালের ১৩ জুন দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। সেদিন রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে অন্তত ১২৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন শতাধিক মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এরপরও প্রতিবছর ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিবৃষ্টি পাহাড় ধসের একটি কারণ হলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়। অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, বন উজাড়, পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। গাছ কেটে ফেলায় পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে যায়। ভারী বৃষ্টির সময় সেই মাটি সহজেই ধসে পড়ে।

বিশেষ করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সেখানে প্রায় ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পাহাড়ি ঢালে বাঁশ ও ত্রিপলের তৈরি ঘরে বসবাস করছেন। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি সব সময় থাকে। শুধু ২০২৫ সালের জুন মাসের দুই দিনেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৩৩টি শিবিরে ৫৩টি পাহাড় ধসের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এতে ১ হাজার ৪০০টির বেশি আশ্রয়স্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত দেশগুলো পাহাড় ধস মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুসরণ করে। জাপান, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের মতো দেশে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসতি নির্মাণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পেলেই আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাহাড়ের ঢাল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোথাও ফাটল দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রথমেই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। যেসব এলাকায় ধসের আশঙ্কা বেশি, সেখানে নতুন বসতি নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। অবৈধ পাহাড় কাটা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। পাহাড়ে ব্যাপকভাবে গাছ লাগাতে হবে। কারণ গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে।

একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাহাড় ধসের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত এবং মাটির অবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে আগে থেকেই সতর্ক করা সম্ভব। এতে মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সময় পাবে।

পাহাড়ি এলাকায় উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। অনেক সময় বৃষ্টির পানি আটকে থাকায় মাটির চাপ বেড়ে যায় এবং ধস নামে। পাহাড়ি সড়ক ও স্থাপনা নির্মাণের সময়ও প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।

জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস না করা, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া এবং পাহাড় কাটার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড় ধস পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সময়মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রাণ হারানোর সংখ্যা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিশেষ প্রতিনিধি।
তুর্য রহমান ১৪ বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। এখন পর্যন্ত ৬টি সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত খবর:

ফেসবুকে আমরা

Flag Counter
© 2026 Daily Press | KFAST Media | All Rights Reserved