খুলনা ব্যুরো: খুলনায় দিন দিন বাড়ছে চুইঝালের চাষ। লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি এখন চুইঝাল চাষে ঝুঁকছেন। চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় এ মসলাজাতীয় ফসলকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
একসময় খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও সাতক্ষীরার কয়েকটি এলাকায় সীমিত পরিসরে চুইঝালের চাষ হতো। এখন এই চাষের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ছে। বাড়ির আঙিনা, বাগান এবং কৃষিজমিতেও চুইঝালের লতা দেখা যাচ্ছে। নতুন অনেক কৃষকও এই চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
চুইঝাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী একটি মসলা। এর কাণ্ড ও শিকড় বিভিন্ন ধরনের রান্নায় ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে গরু, খাসি, হাঁস ও দেশি মুরগির মাংস রান্নায় চুইঝালের ব্যবহার জনপ্রিয়। এর বিশেষ স্বাদ ও ঝাঁজের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একবার চারা রোপণ করলে কয়েক বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। পরিচর্যার খরচও তুলনামূলক কম। ফলে অন্য অনেক ফসলের তুলনায় চুইঝাল চাষে লাভের পরিমাণ বেশি। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় অনেকেই নতুন করে এই চাষ শুরু করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু খুলনা নয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এখন নিয়মিত চুইঝাল পাঠানো হচ্ছে। অনলাইনেও এর বিক্রি বেড়েছে। দেশের বাইরে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের কাছেও চুইঝালের চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে রপ্তানিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুলনার আবহাওয়া ও মাটি চুইঝাল চাষের জন্য উপযোগী। পরিকল্পিতভাবে চাষ বাড়ানো গেলে এটি কৃষকদের আয়ের নতুন উৎস হতে পারে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কিছু উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উন্নত মানের চারা সহজলভ্য করা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে কৃষকরা আরও ভালো দাম পাবেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চুইঝালকে বাণিজ্যিকভাবে চাষের আওতায় আনা গেলে এটি দেশের অন্যতম লাভজনক মসলাজাতীয় ফসলে পরিণত হতে পারে। সরকারি সহযোগিতা, গবেষণা এবং রপ্তানি উদ্যোগ বাড়লে খুলনাকে কেন্দ্র করে নতুন একটি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে চুইঝাল শুধু খুলনার ঐতিহ্য হিসেবেই নয়, দেশের কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় পণ্য হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পাবে।