তুর্য রহমান: স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদে দায়িত্ব পালন করেছেন একাধিক ব্যক্তি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধানের পরিবর্তন, সামরিক শাসন ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার কারণে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রপতির পদে পরিবর্তন এসেছে। কেউ পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেছেন, কেউ পদত্যাগ করেছেন, আবার কেউ দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, সামরিক কর্মকর্তা এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকরা।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকলেও তাঁর নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। পরে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে আবার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটে।
তিনি ১০ এপ্রিল ১৯৭১ থেকে ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ এবং ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ থেকে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ পর্যন্ত মোট দুই দফায় ১ বছর ৩ মাস ২৩ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দি থাকায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের পর তিনি কার্যত স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় এবং অস্থায়ী সরকারের কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফেরার পর তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। পরে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার অন্যতম হিসেবে নিহত হন।
তিনি ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত মোট ৮ মাস ২৪ দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। তিনি একজন খ্যাতিমান বিচারপতি, শিক্ষাবিদ ও কূটনীতিক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালুর পর তিনি মূলত সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালের শেষদিকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণে পদত্যাগ করেন।
তিনি ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ পর্যন্ত মোট ১ বছর ১১ মাস ১২ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
আবু সাঈদ চৌধুরীর পদত্যাগের পর স্পিকার হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ মুহম্মদুল্লাহ। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর সময়েই ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা চালু হয় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পরও তিনি কিছু সময় দায়িত্বে ছিলেন। পরে খন্দকার মোশতাক আহমদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
তিনি ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত এবং পরে ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ থেকে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোট ১ বছর ৭ মাস ২২ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যার মাধ্যমে মুজিব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের পর তিনি ক্ষমতা হারান।
তিনি ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত মোট ২ মাস ২২ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ এস এম সায়েম রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর সময়ে দেশে সামরিক শাসন অব্যাহত ছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ১৯৭৭ সালে পদত্যাগ করেন। এরপর সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ থেকে ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ পর্যন্ত মোট ১ বছর ৫ মাস ১৫ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত রাষ্ট্রপতি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি ‘জেড ফোর্স’-এর অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই বছর গণভোট এবং ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব অব্যাহত রাখেন।
তাঁর শাসনামলে বহুদলীয় রাজনীতি পুনঃপ্রবর্তন করা হয় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, খাল খনন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে তাঁর সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। পররাষ্ট্রনীতিতে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগও তাঁর শাসনামলের উল্লেখযোগ্য দিক।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে কতিপয় বিপদগামী সেনা সদস্যের কাছে শহীদ হন। তার জানাজার নামাজে লাখ লাখ মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। তিনি ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৩০ মে ১৯৮১ পর্যন্ত মোট ৪ বছর ১ মাস ৯ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হন। তিনি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। তবে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
তিনি ৩০ মে ১৯৮১ থেকে ২৪ মার্চ ১৯৮২ পর্যন্ত মোট ৯ মাস ২২ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
সামরিক অভ্যুত্থানের এক বছরের বেশি সময় পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিচারপতি এ. এফ. এম. আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি মূলত সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সেনাপ্রধান এরশাদ। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরে এরশাদ নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে আহসানউদ্দিন চৌধুরীর দায়িত্ব শেষ হয়।
তিনি ২৭ মার্চ ১৯৮২ থেকে ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ পর্যন্ত মোট ১ বছর ৮ মাস ১৪ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থাকেন। তাঁর শাসনামলে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা চালু হয় এবং ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়। তবে দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ পদত্যাগ করেন।
তিনি ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ পর্যন্ত মোট ৬ বছর ১১ মাস ২৫ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ দুই দফায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। নির্বাচন শেষে তিনি বিচার বিভাগে ফিরে যান।
পরে ১৯৯৬ সালে তিনি সর্বসম্মতিক্রমে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি একজন নিরপেক্ষ ও সংবিধাননিষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়। ২০০১ সালে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
তিনি ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ থেকে ৯ অক্টোবর ১৯৯১ এবং ৯ অক্টোবর ১৯৯৬ থেকে ১৪ নভেম্বর ২০০১ পর্যন্ত মোট দুই দফায় ৬ বছর ১১ মাস ৮ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পর আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর মেয়াদকালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত হয়। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ পুরোপুরি সাংবিধানিক পদে রূপ নেয়। ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক সংকট, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং দুটি জাতীয় নির্বাচন তাঁর দায়িত্বকালেই অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি ৯ অক্টোবর ১৯৯১ থেকে ৮ অক্টোবর ১৯৯৬ পর্যন্ত মোট ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের একজন ছিলেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
তিনি ১৪ নভেম্বর ২০০১ থেকে ২১ জুন ২০০২ পর্যন্ত মোট ৭ মাস ৭ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার অধ্যাপক জমির উদ্দিন সরকার সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অল্প সময়ের জন্য এ দায়িত্বে ছিলেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি স্পিকারের দায়িত্বে ফিরে যান।
তিনি ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত মোট ২ মাস ১৬ দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক কমিশনার ছিলেন। তাঁর দায়িত্বকালেই ২০০৬ সালের রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। সে সময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বও গ্রহণ করেন। পরে দেশজুড়ে অস্থিরতার মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০০৯ সালে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়।
তিনি ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত মোট ৬ বছর ৫ মাস ৬ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা জিল্লুর রহমান ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সংবিধান অনুযায়ী বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তাঁর মৃত্যু হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়।
তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে ২০ মার্চ ২০১৩ পর্যন্ত মোট ৪ বছর ১ মাস ৮ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন মো. আবদুল হামিদ। তিনি প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি হিসেবে রেকর্ড গড়েন। তাঁর দায়িত্বকালে একাধিক জাতীয় নির্বাচন, সংবিধানিক নিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
তিনি ২৪ এপ্রিল ২০১৩ থেকে ২৩ এপ্রিল ২০২৩ পর্যন্ত মোট ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
সাবেক জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, আইন অনুমোদন, বিচারপতি নিয়োগসহ সংবিধান নির্ধারিত বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি ২৪ এপ্রিল ২০২৩ থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩ বছর ৩ মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এ পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন মো. আবদুল হামিদ, যিনি টানা ১০ বছর দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক জমির উদ্দিন সরকার, যার দায়িত্বকাল ছিল প্রায় ২ মাস ১৬ দিন।
বিশেষ প্রতিনিধি।
তুর্য রহমান ১৪ বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। এখন পর্যন্ত ৬টি সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি।