1. masidrono@gmail.com : মন রহমান : মন রহমান
  2. admin@dailypressbd.com : নিজস্ব প্রতিনিধি : নিজস্ব প্রতিনিধি
  3. entertainment@dailypressbd.com : বিনোদন প্রতিবেদক : বিনোদন প্রতিবেদক
  4. international@dailypressbd.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  5. tusherhk@gmail.com : রাহাত তুষার : রাহাত তুষার
  6. national@dailypressbd.com : বাংলাদেশ ডেস্ক : বাংলাদেশ ডেস্ক
  7. sports@dailypressbd.com : ক্রীড়া ডেস্ক : ক্রীড়া ডেস্ক
  8. shuvo5566@yahoo.com : তুর্য রহমান : তুর্য রহমান
মাইক্রোপ্লাস্টিক কী? - DAILY PRESS
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন

মাইক্রোপ্লাস্টিক কী?

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

রাহাত তুষার: প্লাস্টিক ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনা করা কঠিন। খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, কাপড়, প্রসাধনী থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক যন্ত্র—সবখানেই প্লাস্টিকের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু এই সুবিধাজনক উপাদানই এখন মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা এখন সমুদ্র, নদী, মাটি, বাতাস এমনকি মানুষের শরীরেও পাওয়া যাচ্ছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কী?

মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের প্লাস্টিক কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের যেকোনো প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর মধ্যে অনেক কণা এতটাই সূক্ষ্ম যে খালি চোখে দেখা যায় না। আবার কিছু কণা মানুষের চুলের ব্যাসের চেয়েও অনেক গুণ ছোট। বিজ্ঞানীরা আরও ছোট আকারের কণাকে ন্যানোপ্লাস্টিক (Nanoplastic) নামে চিহ্নিত করেন। এসব কণার আকার সাধারণত ১ মাইক্রোমিটারেরও কম হতে পারে। গবেষকদের মতে, ন্যানোপ্লাস্টিক মানবদেহের কোষ ও টিস্যুতেও প্রবেশ করতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক মূলত প্লাস্টিকের দীর্ঘস্থায়ী দূষণের ফল। প্লাস্টিক সহজে পচে বা গলে যায় না। বরং বছরের পর বছর ধরে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, তাপ, বৃষ্টি, বাতাস, নদীর স্রোত, সমুদ্রের ঢেউ এবং ঘর্ষণের কারণে ধীরে ধীরে ভেঙে ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়। এই ক্ষুদ্র টুকরোগুলোই একসময় মাইক্রোপ্লাস্টিকে রূপ নেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, একটি প্লাস্টিকের বোতল সম্পূর্ণভাবে পরিবেশে ভেঙে যেতে প্রায় ৪৫০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এই দীর্ঘ সময়ে সেটি অসংখ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক কণায় বিভক্ত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা মাইক্রোপ্লাস্টিককে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করেন। প্রথমটি প্রাইমারি মাইক্রোপ্লাস্টিক (Primary Microplastic)। এগুলো শুরু থেকেই খুব ছোট আকারে তৈরি করা হয়। শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত প্লাস্টিক পেলেট, কিছু প্রসাধনী পণ্যের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা এবং শিল্পপ্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্লাস্টিক দানাগুলো এর উদাহরণ। দ্বিতীয়টি সেকেন্ডারি মাইক্রোপ্লাস্টিক (Secondary Microplastic)। এগুলো বড় প্লাস্টিক পণ্য ভেঙে তৈরি হয়। যেমন—পানির বোতল, পলিথিন, খাবারের মোড়ক, প্লাস্টিকের চেয়ার, খেলনা, মাছ ধরার জাল বা অন্যান্য প্লাস্টিক সামগ্রী ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়।

বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি পরিবেশেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সমুদ্রের গভীর তলদেশ, মেরু অঞ্চলের বরফ, মরুভূমি, পাহাড়ের চূড়া, নদী, হ্রদ, কৃষিজমি এমনকি বাতাসেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় বৃষ্টির পানিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ পৃথিবীর এমন খুব কম স্থানই রয়েছে, যেখানে এই প্লাস্টিক দূষণ এখনও পৌঁছায়নি।

মানুষ প্রতিদিন অজান্তেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসে। খাবার, পানীয়, বাতাস এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে এসব কণা শরীরে প্রবেশ করতে পারে। গবেষণায় মানুষের রক্ত, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি, অন্ত্র, প্লাসেন্টা, মাতৃদুগ্ধ এবং এমনকি মস্তিষ্কের টিস্যুতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। যদিও এসব কণার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে, তবুও বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, বর্তমানে বিশ্বে প্রতি বছর ৪০০ মিলিয়ন টনের বেশি প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়। এর বড় অংশই পুনর্ব্যবহার করা হয় না। এসব প্লাস্টিকের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শেষ পর্যন্ত পরিবেশে জমা হয়ে ধীরে ধীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। ফলে প্রতিদিনই পৃথিবীতে নতুন নতুন মাইক্রোপ্লাস্টিক যুক্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ একবার পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো সংগ্রহ করা বা সম্পূর্ণ অপসারণ করা প্রায় অসম্ভব। তাই প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিস্তার রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন গবেষকরা।

কীভাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে?

বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন উপায়ে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসে। সবচেয়ে সাধারণ পথ হলো খাদ্য ও পানীয়। সমুদ্রের মাছ, চিংড়ি, ঝিনুকসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হতে পারে। এসব খাবার মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

বোতলজাত পানি, কিছু গবেষণায় কলের পানি এবং এমনকি লবণেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন ব্রান্ডের টুথপেস্টেও পাওয়া গেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক।

বাতাসের মাধ্যমে ভেসে বেড়ানো ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। আবার প্লাস্টিকের পাত্রে অতিরিক্ত গরম খাবার বা পানীয় রাখলেও কিছু প্লাস্টিক কণা খাবারে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মানবদেহে কোথায় পাওয়া গেছে?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের শরীরের একাধিক অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় এগুলো পাওয়া গেছে রক্তে, ফুসফুসে, যকৃতে, কিডনিতে, অন্ত্রে, প্লাসেন্টায়, মাতৃদুগ্ধে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনও গবেষণা করছেন, এসব কণা দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে ঠিক কতটা ক্ষতি করতে পারে।

পরিবেশের জন্য কেন বিপজ্জনক?

মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু মানুষের জন্য নয়, পুরো পরিবেশের জন্যও হুমকি। নদী, সমুদ্র ও হ্রদের মাছ এগুলো খাদ্য ভেবে খেয়ে ফেলে। এতে তাদের পরিপাকতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক সময় ক্ষুধা কমে যায় এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

সামুদ্রিক পাখি, কচ্ছপ ও অন্যান্য প্রাণীর শরীরেও মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হতে পারে। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এই কণাগুলো এক প্রাণী থেকে আরেক প্রাণীর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

মাটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হতে পারে। এতে মাটির স্বাভাবিক গঠন এবং অণুজীবের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কেন উদ্বেগ বাড়ছে?

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর কয়েকশো মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়। এর বড় একটি অংশ পুনর্ব্যবহার করা হয় না। ফলে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক পরিবেশে জমা হয় এবং ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে যায়।

মাইক্রোপ্লাস্টিক একবার পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে তা সহজে অপসারণ করা সম্ভব হয় না। নদী থেকে সমুদ্র, সমুদ্র থেকে বায়ুমণ্ডল—সবখানেই এগুলো ছড়িয়ে যেতে পারে। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা এটিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

মাইক্রোপ্লাস্টিক আকারে ছোট হলেও এর সম্ভাব্য প্রভাব বড়। পরিবেশ, প্রাণীকুল এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। তবে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো এখনই জরুরি। আজকের ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাহাত তুষার ডেইলি প্রেসের সঙ্গে কাজ করছেন। এর আগে তিনি শুভ সকাল ডটকমে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তথ্য ও প্রযুক্তি খাতেও পারদর্শী তিনি।

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত খবর:

ফেসবুকে আমরা

Flag Counter
© 2026 Daily Press | KFAST Media | All Rights Reserved