1. masidrono@gmail.com : মন রহমান : মন রহমান
  2. admin@dailypressbd.com : নিজস্ব প্রতিনিধি : নিজস্ব প্রতিনিধি
  3. entertainment@dailypressbd.com : বিনোদন প্রতিবেদক : বিনোদন প্রতিবেদক
  4. international@dailypressbd.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  5. tusherhk@gmail.com : রাহাত তুষার : রাহাত তুষার
  6. national@dailypressbd.com : বাংলাদেশ ডেস্ক : বাংলাদেশ ডেস্ক
  7. sports@dailypressbd.com : ক্রীড়া ডেস্ক : ক্রীড়া ডেস্ক
  8. shuvo5566@yahoo.com : তুর্য রহমান : তুর্য রহমান
বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল, আর্জেন্টিনা-স্পেন লড়াইয়ের ইতিহাস - DAILY PRESS
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল, আর্জেন্টিনা-স্পেন লড়াইয়ের ইতিহাস

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে
argentina spain
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-স্পেন। ছবি: সংগ্রহীত

তুর্য রহমান: ২০ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেন। দুই পরাশক্তির এই লড়াই ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তুঙ্গে উত্তেজনা। তবে ইতিহাস বলছে, আন্তর্জাতিক ফুটবে তারা খুব বেশি বার একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪টি ম্যাচ খেলেছে দুই দল। সেখানে আর্জেন্টিনা ও স্পেন—দু’দলই জিতেছে ৬টি করে ম্যাচ। ড্র হয়েছে ২টি। গোলের হিসাবেও ব্যবধান মাত্র একটি। তাই ফাইনালের আগে পরিসংখ্যানও বলছে, দুই দলের লড়াই বরাবরই হয়েছে সমান সমানে।

দুই দলের প্রথম দেখা হয় ১৯৫২ সালের ৭ ডিসেম্বর। স্পেনের মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে জয় পায়। এটিই ছিল দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দ্বৈরথ। এরপর ১৯৫৩ সালে বুয়েনস আইরেসে আবারও জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেও ব্যবধান ছিল ১-০।

১৯৬০ সালে দুই দলের তৃতীয় সাক্ষাৎ হয়। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জয় তুলে নেয়। তবে এক বছর পর ১৯৬১ সালে নিজেদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে জিতে সমতা ফেরায় স্পেন। শুরু থেকেই দুই দলের লড়াইয়ে পাল্টাপাল্টি জয়ের ধারা দেখা যায়।

আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয় দুই দল। ভিলা পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয় পায়। বিশ্বকাপে এটাই এখন পর্যন্ত দুই দেশের একমাত্র সাক্ষাৎ। সেই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার। অন্যদিকে স্পেন বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকেই। প্রায় ৬০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্বকাপে দুই দলের আর দেখা হয়নি।

১৯৭২ সালে আবার মুখোমুখি হয় দুই দল। স্পেন ১-০ গোলে জয় পায়। এরপর ১৯৭৪ সালের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ১৯৮৮ সালেও দুই দল ১-১ গোলে সমতায় মাঠ ছাড়ে। এই সময়টায় দুই দেশের শক্তির ভারসাম্য প্রায় সমান ছিল।

১৯৯০-এর দশকে স্পেন নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তুলতে শুরু করে। ১৯৯৫ সালের প্রীতি ম্যাচে স্পেন ২-১ গোলে জয় পায়। তবে ১৯৯৯ সালে পাল্টা জবাব দেয় আর্জেন্টিনা। মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে তারা ২-০ গোলে জয় তুলে নেয়।

২০০৬ সালে আবারও জয় পায় স্পেন। এরপর ২০০৯ সালেও একই ব্যবধানে, ২-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায় ইউরোপের দলটি। সে সময় স্পেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছিল। জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ইকার ক্যাসিয়াস, ডেভিড ভিয়া ও কার্লেস পুয়োলদের নেতৃত্বে দলটি ইউরো ২০০৮ জয়ের পর দুর্দান্ত ছন্দে ছিল।

তবে ২০১০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বড় ধাক্কা দেয় আর্জেন্টিনা। বুয়েনস আইরেসে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৪-১ গোলে জয় পায়। ম্যাচটিতে গঞ্জালো হিগুয়েইন, লিওনেল মেসি, কার্লোস তেভেজ ও সার্জিও আগুয়েরো গোল করেন। বিশ্বকাপ জয়ের মাত্র দুই মাস পর স্পেনের বিপক্ষে এটি ছিল আর্জেন্টিনার অন্যতম স্মরণীয় জয়।

দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয় ২০১৮ সালের ২৭ মার্চ। মাদ্রিদের ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে স্পেন ৬-১ গোলের বিশাল জয় পায়। এটি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। সেই ম্যাচে ডিয়েগো কস্তা, ইসকো ও ইয়াগো আসপাস দুর্দান্ত খেলেন। ইসকো হ্যাটট্রিক করেন। লিওনেল মেসি ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি। আর্জেন্টিনার একমাত্র গোলটি করেন নিকোলাস ওতামেন্দি।

মজার বিষয় হলো, ১৪ ম্যাচে দুই দলের জয়-পরাজয়ের হিসাব সমান হলেও গোলসংখ্যায় সামান্য এগিয়ে স্পেন। এখন পর্যন্ত মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পেন করেছে ১৯ গোল। আর্জেন্টিনা করেছে ১৮ গোল। অর্থাৎ মাত্র এক গোলের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইউরোপের দলটি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, দুই দেশের ১৪ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি ছিল প্রতিযোগিতামূলক। সেটি ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ। বাকি সব ম্যাচই ছিল প্রীতি ম্যাচ বা বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। ফলে বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকা-ইউরোর মতো বড় টুর্নামেন্টে তাদের লড়াই খুব কমই দেখা গেছে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান আলাদা হওয়ায় মুখোমুখি ম্যাচের সংখ্যা কম। আর্জেন্টিনা নিয়মিত খেলে দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাই ও কোপা আমেরিকায়। অন্যদিকে স্পেন ব্যস্ত থাকে ইউরো ও ইউরোপীয় বাছাইপর্ব নিয়ে। ফলে ফিফা প্রীতি ম্যাচ ছাড়া তাদের দেখা হওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।

দুই দেশের ফুটবল দর্শনেও রয়েছে পার্থক্য। আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, সৃজনশীলতা ও আক্রমণাত্মক মানসিকতার ওপর। দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে লিওনেল মেসি—এই ধারারই প্রতীক। অন্যদিকে স্পেন পরিচিত বল দখলভিত্তিক টিকি-টাকা কৌশলের জন্য। জাভি, ইনিয়েস্তা, বুসকেটসদের হাত ধরে এই ধারা বিশ্ব ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা করেছিল।

বিশ্বকাপ সাফল্যের দিক থেকে অবশ্য আর্জেন্টিনা এগিয়ে। দেশটি ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে। স্পেনের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা আসে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায়। তবে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের সাফল্য বেশি। দেশটি চারবার ইউরোপের সেরা হয়েছে। আর্জেন্টিনা আবার কোপা আমেরিকার অন্যতম সফল দল। এসব কারণেই দুই দেশের দ্বৈরথকে ভিন্ন দুই ফুটবল সংস্কৃতির লড়াই বলা হয়।

ফুটবল ইতিহাসবিদদের মতে, আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচের সংখ্যা কম হলেও প্রতিটি ম্যাচই বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ, ২০১০ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারানো কিংবা ২০১৮ সালের ৬-১ গোলের ম্যাচ—সবকটিই ফুটবল ইতিহাসে আলাদা করে স্মরণীয় হয়ে আছে।

দুই দেশের বর্তমান প্রজন্মও বিশ্ব ফুটবলে দারুণ শক্তিশালী। আর্জেন্টিনার হাতে রয়েছে বিশ্বকাপের বর্তমান মুকুট। অন্যদিকে স্পেন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবারও ইউরোপের অন্যতম সেরা দলে পরিণত হয়েছে। তাই এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল নিঃসন্দেহে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি হবে। ইতিহাস বলছে, তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ে কোনো দলই স্পষ্ট আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। বরং সাত দশকের পরিসংখ্যান জানিয়ে দেয়, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের দ্বৈরথ বরাবরই ছিল সমান সমানে লড়াইয়ের এক অনন্য উদাহরণ।

বিশেষ প্রতিনিধি।
তুর্য রহমান ১৪ বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। এখন পর্যন্ত ৬টি সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত খবর:

ফেসবুকে আমরা

Flag Counter
© 2026 Daily Press | KFAST Media | All Rights Reserved