1. masidrono@gmail.com : মন রহমান : মন রহমান
  2. admin@dailypressbd.com : নিজস্ব প্রতিনিধি : নিজস্ব প্রতিনিধি
  3. entertainment@dailypressbd.com : বিনোদন প্রতিবেদক : বিনোদন প্রতিবেদক
  4. international@dailypressbd.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  5. tusherhk@gmail.com : রাহাত তুষার : রাহাত তুষার
  6. national@dailypressbd.com : বাংলাদেশ ডেস্ক : বাংলাদেশ ডেস্ক
  7. sports@dailypressbd.com : ক্রীড়া ডেস্ক : ক্রীড়া ডেস্ক
  8. shuvo5566@yahoo.com : তুর্য রহমান : তুর্য রহমান
ভারতে ককরোচ আন্দোলন, সরব বলিউড তারকারা - DAILY PRESS
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮ অপরাহ্ন

ভারতে ককরোচ আন্দোলন, সরব বলিউড তারকারা

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে
cockroach-movement-bollywood-stars
শিক্ষার্থী আন্দোলনে সরব বলিউড তারকার। কোলাজ: ডেইলি প্রেস

মন রহমান: ভারতে প্রশ্নফাঁস, নিয়োগ দুর্নীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলন এখন আর কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে বলিউডের একের পর এক তারকা প্রকাশ্যে আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। কেউ সরাসরি আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়েছেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আবার অনেক তারকার নীরবতা নিয়েও শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

এই আন্দোলনে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি এসেছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কাছ থেকে। সাধারণত রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক বিতর্কে খুব কমই প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযানের পর নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অরিজিৎ। তিনি লেখেন, “নেতা-মন্ত্রীরা, দিল্লি পুলিশ—নিজেদের কি ঈশ্বর ভাবছেন? সবকিছুই মানুষ মনে রাখবে। পৃথিবীর একমাত্র ধ্রুবক হলো পরিবর্তন।”

অরিজিৎ সিংয়ের এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। লাখ লাখ মানুষ সেটি শেয়ার করেন। অনেকেই তাঁর সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করেন। তবে সমালোচনাও কম হয়নি। এক ভক্ত মন্তব্য করেন, তিনি ভবিষ্যতে অরিজিৎ সিংয়ের কোনো গান শুনবেন না। জবাবে অরিজিৎ লেখেন, “আপনি আমার সব প্লেলিস্ট মুছে ফেলতে পারেন, কিন্তু তাতে আমার মতামত বদলে যাবে না।” তাঁর এই মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি সরাসরি আন্দোলনস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। যন্তর-মন্তরে পুলিশের টিয়ার গ্যাস ছোড়ার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন। পরে তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিনের হাঁপানি রোগী। টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তবুও তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো একজন নাগরিক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব।

শাবানা আজমি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষা নিয়ে অনিয়ম কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সমস্যা নয়; এটি কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত। তাই এই ইস্যুতে সরকারের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত।

শাবানা আজমি আরও জানান, আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁর স্বামী, প্রখ্যাত গীতিকার ও লেখক জাভেদ আখতার প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছিল। জাভেদ আখতার দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা, গণতন্ত্র এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে সরব কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত। যদিও তিনি সরাসরি আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হননি, তাঁর অবস্থান শিক্ষার্থীদের প্রতি স্পষ্ট সমর্থন হিসেবেই দেখা হয়েছে।

এই আন্দোলনের আরেকটি বড় মুখ হয়ে ওঠেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ। বরাবরই রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার জন্য পরিচিত এই অভিনেতা যন্তর-মন্তরের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, গণতন্ত্রে প্রশ্ন করার অধিকার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনরত তরুণদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “যখন তরুণরা প্রশ্ন করতে শুরু করে, তখনই প্রকৃত পরিবর্তনের সূচনা হয়।”

প্রকাশ রাজ আরও বলেন, বলিউড ও ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁর মতে, শিল্পীদের শুধু সিনেমার পর্দায় নায়ক হলে চলবে না, বাস্তব জীবনেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস থাকতে হবে।

আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। তিনি লেখেন, “জনগণের কণ্ঠই ঈশ্বরের কণ্ঠ।” সংক্ষিপ্ত এই বার্তাই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। দিলজিৎ সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য না করলেও শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি তাঁর সমর্থন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অভিনেতা রিতেশ দেশমুখ এবং তাঁর স্ত্রী জেনেলিয়া দেশমুখও আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ভারতের তরুণদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে অবহেলা না করে বরং তাদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তারা লেখেন, “যুবসমাজের কণ্ঠস্বর শোনা, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ক্ষমতায়ন করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

রিতেশ-জেনেলিয়ার এই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পায়। বিশেষ করে তরুণরা মনে করেন, জনপ্রিয় তারকারা যখন তাদের পাশে দাঁড়ান, তখন আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়ে।

রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া দেশমুখের পর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এগিয়ে আসেন অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন তরুণদের কণ্ঠকে উপেক্ষা করা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য শুভ হতে পারে না। তাঁর মতে, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই তরুণদের ওপর, তাই তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসনের প্রতিও সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেন।

একই সুরে কথা বলেন অভিনেত্রী হুমা কুরেশি। তিনি বলেন, পরীক্ষা শুধু একটি কাগজে লেখা উত্তর নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে লাখো পরিবারের স্বপ্ন, বছরের পর বছর ধরে করা পরিশ্রম এবং একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করে দেয়। তিনি লেখেন, যেসব শিক্ষার্থী ন্যায্যতার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন, তাদের কথা শোনা উচিত।

প্রখ্যাত অভিনেত্রী ও নির্মাতা নন্দিতা দাস আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক চশমায় না দেখে নাগরিকদের উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, কোনো রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সে নিজের তরুণ নাগরিকদের কথা শুনতে শেখে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করছে, তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন কেন?

চলচ্চিত্র নির্মাতা সুতপা সিকদারও আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছে না; তারা শুধু একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা চাইছে। তাঁর মতে, এই দাবি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার।

বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ, যিনি করোনা মহামারির সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছিলেন, তিনিও শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মেধাবী শিক্ষার্থীর ন্যায্য সুযোগ পাওয়া উচিত। পরীক্ষায় অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা মেধাবীদের প্রতি অন্যায় এবং এটি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী বীর দাসও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি লেখেন, একটি সভ্য সমাজে তরুণদের প্রশ্ন করাকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং তাদের প্রশ্ন থেকেই পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়। তিনি গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

অভিনেত্রী দিয়া মির্জা বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন।

সোহা আলি খানও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে লেখেন, তরুণদের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে তার আরও বড় সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষা, আর সেই ভিত্তি যদি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে পুরো সমাজই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি বলেন, যারা বছরের পর বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে একটি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের অবিচার মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

তবে আন্দোলনকে ঘিরে যতটা আলোচনা হয়েছে সমর্থন নিয়ে, তার চেয়ে কম হয়নি নীরবতা নিয়ে। বিশেষ করে বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। আন্দোলনের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করায় তাঁর একাধিক ফ্যান পেজে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমনকি একটি জনপ্রিয় ফ্যান পেজ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জানায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রিয় তারকার নীরবতা তাদের হতাশ করেছে। যদিও ক্যাটরিনা নিজে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবুও বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল।

বিশেষ প্রতিনিধি।
মন রহমান দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন। এখন পর্যন্ত ৭টি মিডিয়া হাউজে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত খবর:

ফেসবুকে আমরা

Flag Counter
© 2026 Daily Press | KFAST Media | All Rights Reserved