নিজস্ব প্রতিনিধি: ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল সামনে রেখে সারা দেশে বাড়ছে দর্শকদের আগ্রহ। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি ঘিরে বিভিন্ন জেলা, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেডিয়াম, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ব্যবসায়ী সমিতি বড় পর্দায় খেলা দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব বিভাগেই জনসমাগমের উপযোগী বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কোথাও এলইডি স্ক্রিন, কোথাও প্রজেক্টর, আবার কোথাও অস্থায়ী স্টেডিয়ামসদৃশ দর্শক জোন তৈরি করা হচ্ছে।
আয়োজকদের দাবি, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু খেলা দেখানো নয়; বরং উৎসবমুখর পরিবেশে পরিবার ও বন্ধুদের একসঙ্গে ফাইনাল উপভোগের সুযোগ তৈরি করা। নিচে বিভাগভিত্তিক সম্ভাব্য বড় পর্দার আয়োজন তুলে ধরা হলো।
রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি বড় পর্দার আয়োজন হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নির্ধারিত অংশ, পূর্বাচল ও উত্তরা এলাকার কয়েকটি কমিউনিটি সেন্টার এবং বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সের খোলা প্রাঙ্গণে খেলা দেখানোর প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ফ্যান জোন তৈরি করছে।
গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও সাভার এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি এবং ক্রীড়া সংগঠনগুলো বড় স্ক্রিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে কর্মজীবী মানুষদের জন্য রাতভর ফাইনাল দেখার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় বড় পর্দা স্থাপনের আলোচনা চলছে। নগরের বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক সংগঠন নিজস্ব উদ্যোগে এলইডি স্ক্রিন বসাচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্রও পর্যটকদের জন্য ফাইনাল দেখানোর পরিকল্পনা করেছে।
রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির জেলা সদরে যুব ও ক্রীড়া সংগঠনগুলো খোলা মাঠে বড় পর্দার ব্যবস্থা করছে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও আবহাওয়ার বিষয় বিবেচনায় জেনারেটর প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, রাজশাহী কলেজ মাঠসংলগ্ন এলাকা এবং কয়েকটি আবাসিক অঞ্চলে বড় স্ক্রিন বসানোর প্রস্তুতি চলছে। বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকা এবং নওগাঁ জেলা স্টেডিয়ামসংলগ্ন স্থানে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা যৌথভাবে আয়োজন করছে।
পাবনা ও সিরাজগঞ্জে ব্যবসায়ী সমিতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো রাতভর খেলা দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক দলও রাখা হবে।
খুলনা নগরের শিববাড়ি মোড়, জেলা স্টেডিয়াম এলাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কয়েকটি স্থানে বড় পর্দা স্থাপন করা হচ্ছে। যশোর শহরে টাউন হল মাঠে সম্ভাব্য বড় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মাগুরায় স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলো যৌথভাবে ফাইনাল দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অনেক জায়গায় প্রবেশ উন্মুক্ত রাখা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
বরিশাল নগরের বেলস পার্ক, স্টেডিয়াম এলাকা এবং নদীর তীরবর্তী কয়েকটি খোলা স্থানে বড় স্ক্রিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পটুয়াখালী ও ভোলায় উপকূলীয় এলাকার দর্শকদের জন্য অস্থায়ী ফ্যান জোন তৈরি করা হচ্ছে।
বরগুনা ও ঝালকাঠিতেও স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে বড় পর্দার আয়োজন হচ্ছে। আয়োজকরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দর্শকসংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্ট, চৌহাট্টা এবং জেলা স্টেডিয়াম এলাকায় বড় স্ক্রিন স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে পৃথক ফ্যান জোন তৈরির পরিকল্পনা করছে।
মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ফাইনাল ঘিরে বিশেষ উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি সংগঠন যৌথভাবে বড় এলইডি স্ক্রিন ভাড়া করেছে।
রংপুর নগরের টাউন হল মাঠ, জাহাজ কোম্পানি মোড় এবং জেলা স্টেডিয়াম এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখানোর প্রস্তুতি চলছে। দিনাজপুর ও নীলফামারীতে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনগুলো দর্শকদের জন্য খোলা মাঠে প্রজেক্টর স্থাপন করছে।
কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে সীমান্তবর্তী এলাকার ফুটবলপ্রেমীরাও নিজস্ব উদ্যোগে ফ্যান জোন তৈরি করছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট প্রবেশপথ রাখা হবে।
ময়মনসিংহ শহরের সার্কিট হাউস মাঠসংলগ্ন এলাকা, জিলা স্কুল মাঠ এবং কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে বড় স্ক্রিন বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুরেও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন আয়োজন করছে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে অনেক জায়গায় খেলা শুরুর আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কুইজ প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং এক ধরনের সামাজিক উৎসব। আর্জেন্টিনা ও স্পেন—দুই দলের সমর্থকেরাই ইতোমধ্যে পতাকা, জার্সি ও ব্যানারে নিজেদের সমর্থন প্রকাশ শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বড় পর্দার আয়োজন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
আয়োজকদের আশা, সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে এবারের ফাইনাল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জনসমাগমের ফুটবল দর্শন উৎসবগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। বিভাগভিত্তিক এই আয়োজনগুলোতে লাখো মানুষ একসঙ্গে বসে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি উপভোগ করবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন ক্রীড়াপ্রেমীদের।