ডেইলি প্রেস ডেস্ক: ২০২৫-২৬ করবর্ষ থেকে আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলে অনলাইন পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রবিবার (২৮ জুলাই) এক বিশেষ আদেশে এনবিআর জানায়, এখন থেকে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির সব করদাতাকেই রিটার্ন অনলাইনে জমা দিতে হবে।
তবে এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা এবং মৃত করদাতার পক্ষে আইনগতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি। এদের ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ঐচ্ছিক থাকবে।
এনবিআরের আদেশে বলা হয়েছে, কেউ যদি এরইমধ্যে কাগজপত্রে রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন, তবে তা বাতিল নয়—গ্রহণযোগ্য হিসেবেই বিবেচিত হবে। তবে আগামীতে যেকোনো সাধারণ করদাতাকে রিটার্ন দিতে হলে অবশ্যই অনলাইনে করতে হবে।
যদি কেউ অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে অক্ষম হন, তাহলে তাকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে যুক্তিসহ আবেদন করতে হবে। পরে অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে কাগুজে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।
গত করবর্ষে নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির জন্যই অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক ছিল। এর মধ্যে ছিল ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সব সরকারি কর্মচারী, সব তফশিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ, ইউনিলিভার বাংলাদেশ এবং দেশের সব মোবাইল অপারেটরের কর্মীরা।
এসব উদ্যোগের ফলে অনলাইন রিটার্ন দাখিলে রেকর্ড সৃষ্টি হয়। বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৭ লাখ ১২ হাজার ৪৯২ জন করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেন। আর ই-টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা এখন প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ।
এর আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪-এ ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ৫ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৭ জন।
এনবিআর জানিয়েছে, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি রাজস্ব আদায়ে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।