ডেইলি প্রেস ডেস্ক: ইসরাইলি হামলা ও অবরোধে বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীরজুড়ে থমকে গেছে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম। ক্রমাগত সহিংসতা ধ্বংস করে দিয়েছে অবকাঠামো ও উৎপাদনব্যবস্থা। জীবিকা হারিয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছে লাখো মানুষ। জাতিসংঘ বলছে, এটি ফিলিস্তিনের ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর অর্থনৈতিক বিপর্যয়।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনসিটিএডি প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান ও কঠোর অবরোধের কারণে ফিলিস্তিনের পুরো অর্থনীতি প্রায় ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে গাজা উপত্যকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যেখানে শিল্প, কৃষি, বাণিজ্য ও সেবা খাত প্রায় সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে গাজার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮৩ শতাংশ কমে গেছে। দুই বছরে মোট পতনের হার দাঁড়িয়েছে ৮৭ শতাংশে। গাজার অর্থনীতির আকার নেমে এসেছে মাত্র ৩৬২ মিলিয়ন ডলারে, যা অঞ্চলটির পূর্ববর্তী সক্ষমতার তুলনায় নগণ্য। একই সঙ্গে মাথাপিছু আয় কমে ১৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে নিম্নমানের অর্থনীতিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও চিত্র ভয়াবহ। চলাচলে কড়াকড়ি, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বেকারত্বের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দারিদ্র্যের মাত্রা পৌঁছেছে নজিরবিহীন পর্যায়ে। হাজার হাজার পরিবার ন্যূনতম খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
ইউএনসিটিএডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। স্কুল, হাসপাতাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানির অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এর ফলে কয়েক দশকের উন্নয়ন সম্পূর্ণভাবে পিছিয়ে গেছে।
আরো বলা হয়, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রাপ্য প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আটকে রাখায় সরকার বেতন প্রদান ও জরুরি সেবা চালু রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমও চরম চাপে পড়েছে এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে কমপক্ষে ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে। সংস্থাটি দ্রুত যুদ্ধবিরতি, অবরোধ শিথিল এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে ফিলিস্তিনের অর্থনীতি আরও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে নিমজ্জিত হবে, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও মারাত্মকভাবে পড়বে।