ডেইলি প্রেস ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় আজ (৭ আগস্ট) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সরকারের এ পর্যায়ের প্রধান কাজ হচ্ছে জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া। সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বৈঠকের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ৫ আগস্ট সরকারের প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে ফেব্রুয়ারি মাসে রমজান শুরুর আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা যায়।
প্রেস সচিব জানান, একই সময় সরকারের অন্যান্য কাজ যেমন সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়াও চলমান থাকবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে দুটি অভিনন্দন প্রস্তাব গৃহীত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে অভিনন্দন জানানো হয়। তাঁর নেতৃত্বে পাল্টা শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে মাসব্যাপী অনুষ্ঠান সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকেও অভিনন্দন জানানো হয়।
প্রেস সচিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদের মোট ৩১৫টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ২৪৭টি বাস্তবায়ন হয়েছে, যা শতকরা ৭৮.৪১ ভাগ। স্বাধীনতার পর এটাই যেকোনো সরকারের সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া, ১১ সংস্কার কমিশনের দেওয়া ১২১টি আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের মধ্যে ১৬টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, ৮৫টি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন এবং ১০টি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি ১০টি সুপারিশ বাস্তবায়নের উপযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত শিক্ষক মেহেরীন চৌধুরীর নামে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি পুরস্কার চালু করবে। তাঁর আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে গাজীপুর ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। এখন থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নাম হবে “ইউনিভার্সিটি অফ ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশ”।
অবশেষে, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানে একটি নির্দিষ্ট বিধি তৈরি করা হচ্ছে। কে কত অর্থ সহায়তা পাবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে বলে জানান শফিকুল আলম। শহীদ পরিবারের সম্মান ও দাবি বিবেচনায় নিয়েই এ বিধি প্রণয়ন করা হবে।