ডেইলি প্রেস ডেস্ক: লড়াইটা শুরু হয়েছিল বিপর্যয় দিয়ে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। তবে ব্যাট হাতে হাল ধরেন জাকের আলি অনিক ও মাহেদি হাসান। ধৈর্য ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলের জন্য গড়েন গুরুত্বপূর্ণ জুটি, আর শেষ পর্যন্ত জাকেরের দুর্দান্ত ফিফটিতে দাঁড়ায় লড়াকু সংগ্রহ।
জবাবে পাকিস্তানও পড়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে। শেষদিকে ফাহিম আশরাফ একাই লড়াই করার চেষ্টা করলেও জয় থেকে ৮ রান দূরেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। ফলে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ এবং তিন ম্যাচের সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জিতে নেয় টাইগাররা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে রচনা করে নতুন ইতিহাস।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১২৫ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা হয় খুবই বাজেভাবে। লম্বা সময় পর একাদশে ফেরা নাঈম শেখ মাত্র ৩ রানে ফিরেন দ্বিতীয় ওভারে। এরপর দ্রুত ফিরে যান লিটন দাস (৮) ও তাওহীদ হৃদয় (০)। আগের ম্যাচের নায়ক ইমনও আজ হতাশ করেন, ১৪ বলে ১৩ রান করে বিদায় নেন অভিষিক্ত পেসার আহমেদ দানিয়ালের বলে।
এরপর চাপে পড়া দলকে টেনে তোলেন জাকের আলি ও মাহেদি হাসান। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েন ৪৯ বলে ৫৩ রানের কার্যকরী জুটি। মাহেদি ৩৩ রানে আউট হলেও অপর প্রান্তে জাকের চালিয়ে যান ইনিংস। শেষ ওভারে গিয়ে ৫৫ রানে থামেন তিনি। তার ৪৮ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১টি চার ও ৫টি ছক্কায়।
পাকিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন সালমান মির্জা, আব্বাস আফ্রিদি ও আহমেদ দানিয়াল। একটি করে উইকেট পান ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মদ নওয়াজ।
পাকিস্তানের জবাবী ইনিংসেও ধস নামে শুরুতেই। প্রথম ওভারে রান আউট হয়ে যান সাইম আইয়ুব। এরপর মোহাম্মদ হারিস (০), ফখর জামান (৮), হাসান নওয়াজ ও মোহাম্মদ নওয়াজ পরপর বিদায় নিলে বিপর্যয়ে পড়ে দলটি।
অধিনায়ক সালমান আলি আগা খেলেন ২৩ বলে ৯ রানের ধীরগতির ইনিংস। খুশদিল শাহ করেন মাত্র ১৩ রান। এক সময় ম্যাচ হাতছাড়া মনে হলেও ফাহিম আশরাফ প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। ৩১ বলে তুলে নেন অর্ধশতক, যার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা। তবে শেষ পর্যন্ত রিশাদের বলে বোল্ড হয়ে পাকিস্তানের জয়ের স্বপ্ন চুরমার করেন তিনি।
শেষ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে দানিয়াল (১১ বলে ১৭) আউট হলে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম ছিলেন দুর্দান্ত, ৪ ওভারে ১৭ রানে ৩ উইকেট। তানজিম হাসান সাকিব ও মাহেদি হাসান নেন ২টি করে উইকেট। রিশাদ ও মোস্তাফিজ পান একটি করে উইকেট।
এই জয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নেয় স্বাগতিকরা। মাঠে যেমন দাপট ছিল, ঠিক তেমনি ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। টাইগারদের এই জয়ে যেন উঠে এল নতুন প্রত্যয়ের গল্প।