ডেইলি প্রেস ডেস্ক: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্যামনগরে বিক্ষোভ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে আটটার দিকে শ্যামনগর পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেসি কমপ্লেক্স চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেন দুই শতাধিক মানুষ, যাঁরা বিভিন্ন স্লোগানে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশের ৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রাথমিক গেজেট প্রকাশ করেছে। এর আওতায় সাতক্ষীরার ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটি আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই শ্যামনগরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পূর্ববর্তী সীমানা অনুযায়ী, সাতক্ষীরা-৪ আসনটি শ্যামনগর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও কালীগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ছিল। নতুন প্রস্তাবে শ্যামনগরের বর্তমান কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নকে।
তবে এই পুনর্বিন্যাসে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্যামনগরের স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। আশাশুনিতে যেতে হলে কালীগঞ্জ উপজেলা হয়ে ঘুরপথে যেতে হয় কিংবা নৌকায় নদী পার হতে হয়, যা প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিক্ষোভপূর্ব পথসভায় সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়ামন কবীর, জেলা বিএনপির সদস্য জি এম লিয়াকত আলী, সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান, শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। তাঁরা অবিলম্বে এই সীমানা পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানান এবং জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি তোলেন।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা-৩ আসন পুনর্বিন্যাস করে প্রস্তাব করা হয়েছে দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার সম্পূর্ণ ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে। এই পুনর্বিন্যাসও স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত অবিবেচনাপ্রসূত এবং এতে জনদুর্ভোগ বাড়বে। তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “শ্যামনগর আসন ছিল, শ্যামনগর থাকবে”—এই দাবিতেই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন যতক্ষণ না নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।