1. admin@dailypressbd.com : ডেইলি প্রেস ডেস্ক :
১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল এবং পরিসংখ্যান - DAILY PRESS
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল এবং পরিসংখ্যান

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে
elections in Bangladesh
প্রতীকী ছবি। গ্রাফিক্স- ডেইলি প্রেস

ডেইলি প্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১২টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনের ফলাফলই দেশের শাসনব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এসব নির্বাচনের মাধ্যমে কখনো ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, আবার কখনো একই রাজনৈতিক শক্তির আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ১৯৭৩

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। এটি ছিল নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন।

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করে। মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে দলটি ২৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৪.৯১ শতাংশ। তখন বিরোধী দলগুলো খুব দুর্বল ছিল এবং বড় কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী দল গড়ে ওঠেনি। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল এবং বাংলাদেশ জাতীয় দল মাত্র একটি করে আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করে মাত্র ৫টি আসনে। ফলে কার্যকর বিরোধী দল প্রায় ছিল না বললেই চলে।

এই বড় জয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ শাসক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দেশের রাজনীতিতে তাদের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়। এই নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়।

দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ১৯৭৯

বহুদলীয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে।

৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৭টি আসন লাভ করে এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫১ শতাংশ। এই নির্বাচনটি আওয়ামী লীগের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জিং। তারা জয় পায় মাত্র ৩৯টি আসনে। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ২০টি এবং বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক দল ৮টি আসনে জয়লাভ করে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান নেয়।

এটিকে দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় হিসেবে ধরা হয়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বোঝা যায় যে দেশে রাজনৈতিক বিকাশ দ্রুত হচ্ছে এবং একদলীয় শাসনের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসে। এই নির্বাচন বহুদলীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ১৯৮৬

সামরিক শাসনামলের মধ্যে বাংলাদেশের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালের ৭ মে। এটি ছিল সামরিক শাসনের পর আবার সংসদীয় নির্বাচনে ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।

এই নির্বাচনে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি জয়ী হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ পায় ৭৬টি আর বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী পায় ১০টি আসন। নির্বাচেন ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ। তবে এই নির্বাচনে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল। ভোট বয়কট করে বিএনপি। ফলে রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল উত্তেজনাপূর্ণ।

আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক শাসনের মধ্যেই একটি নির্বাচনী ধারার সূচনা হয়, যদিও বিতর্কের কারণে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ১৯৮৮

বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ। নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। কারণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অনেক বড় বিরোধী দল এতে অংশগ্রহণ করেনি।

এই সুযোগে জাতীয় পার্টি প্রায় একচ্ছত্রভাবে জয় লাভ করে এবং মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৫১টির বেশি আসন পেয়ে সংসদ গঠন করে। সম্মিলিত বিরোধী জোট মাত্র ১৯টি আসন। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫২.৪৮ শতাংশ। বিরোধী দলগুলোর অনুপস্থিতির কারণে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন উঠে। ফলে এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

যদিও সংখ্যার দিক থেকে জাতীয় পার্টির অবস্থান ছিল খুব শক্তিশালী। তবুও জনসমর্থন ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ঘাটতির কারণে এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়।

পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ১৯৯১

গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের পতনের পর বাংলাদেশের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

এটি ছিল সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন, যার মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঘটে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ১৪০টি আসন লাভ করে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয় পার্টি পায় ৩৫টি আর বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামি পায় ১৮টি আসন। ভোটার অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ। এই ফলাফল বিএনপির জন্য আবার ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করে এবং বিরোধী রাজনীতির একটি নতুন কাঠামো গড়ে ওঠে।

একই সঙ্গে এই নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা পরিবর্তনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করে এবং জনগণের আস্থাকে দৃঢ় করে।

ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন – জুন ১৯৯৬

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি ছিল বিতর্কিত এবং স্বল্পস্থায়ী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে বড় বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জন করে। ফলে নির্বাচনটি কার্যত একদলীয় রূপ নেয় এবং এর বৈধতা ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

এর ফলস্বরূপ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রায় একচ্ছত্রভাবে জয় লাভ করে এবং ২৭৮টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। বাংলাদেশ ফ্রিডম পার্টি পায় ১টি আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পায় ১০টি আসন। ভোটার অংশগ্রহণ ছিল মাত্র ২০.৯৭ শতাংশ।

বিরোধী দলের বর্জনের কারণে এই সংসদ মাত্র কয়েক মাস স্থায়ী হয় এবং শেষ পর্যন্ত সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। পরে আবার নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন – জুন ১৯৯৬

মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ফের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এইবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয় এবং উল্লেখযোগ্য জয় অর্জন করে। দলটি ১৪৬টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ১১৬টি আসন লাভ করে এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি ৩২টি আর বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামি পায় মাত্র ৩টি আসন। ভোটার অংশগ্রহণ ছিল ৭৫.৬০ শতাংশ, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি।

বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণের কারণে এই নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ২০০১

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত। ভোটে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।

বিএনপি এককভাবে ১৯৩টি আসন লাভ করে এবং জোট সরকার গঠন করে। জোটের শরীয় বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামি ১৭টি আসন পায়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ৬২টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে অবস্থান নেয়। ভোটার অংশগ্রহণ ছিল ৭৪.৯৭ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনকে মোটামুটি বৈধ ও প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে মূল্যায়ন করেন, যদিও নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ২০০৮

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । বাংলাদেশের ইতিহাসে এই নির্বাচনকে সবচেয়ে অবাদ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও বিরোধীরা এ নির্বাচনে সুক্ষ কারচুপির অভিযোগ তুললেও শক্ত প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়।

ভোটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৬৩টি আসন জিতে সরকার গঠন করে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩০টির বেশি আসন অর্জন করে। জাতীয় পার্টি পায় ২৭টি আসন। মহাজোটের অন্য শরীক জাসদ ৩টি এবং বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি পায় ২টি আসন। অন্যদিকে বিএনপি পায় মাত্র ৩০টি আসন। আর বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামি পায় ২টি আসন।

দীর্ঘ প্রতিক্ষার এই নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৮৭ শতাংশ।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ২০১৪

বিরোধী জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। এটি দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত বিতর্কিত নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত। মূলত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশ প্রবেশ করে ভোটহীন সংস্কৃতির এক অতল গহ্বরে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এই নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো অংশ না নিয়ে বয়কট করে। এর ফলে এক রকম বিনা বাধায় আওয়ামী লীগ এবং তাদের নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয় পায়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ১৫৩ জন এমপি নির্বাচিত হন। ২৩৪টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি পায় ৩৪টি আসন। ভোটার অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। যদিও উপস্থিতির এ হার নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।

বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের অনুপস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র জয় দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বীকৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ২০১৮

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। অত্যন্ত বিতর্কিত এই নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিতি পায়। সুষ্ঠুত নির্বাচনের আশ্বাসে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিলেও, নির্বাচন কমিশন কার্যত ব্যর্থ হয়।

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ‑নেতৃত্বাধীন মহাজোট বড় জয় লাভ করে এবং ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৭টি আসন অর্জন করে। ফলে দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে। প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট পায় মাত্র ৭টি আসন।

ভোটার অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৮২.৫৮ শতাংশ। তবে ব্যাপক জাল ভোটের অভিযোগ করে বিরোধী দল। ভোট শুরুর আগেই ব্যালটভর্তি বক্সের ফুটেজ প্রকাশ পায় একাধিক গণমাধ্যমে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ২০২৪

দ্বাদশ নির্বাচন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। তত্ত্বাবধায়ক সরকাররে এ নির্বাচন বয়কট করে বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলো। ফলে আওয়ামী লীগ এবং তাদের নেতৃত্বাধীন মহাজোট আবারও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে।

নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণ ৪০ শতাংশের কথা বলা হলেও, তা নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচন ব্যাপকভাবে বয়কট করায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা এবং নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পায় ২২৪টি আসন। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি পায় ১১টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেন ৬২টি আসনে।

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত খবর:
© 2025 Daily Press | KFAST Media | All Rights Reserved