ডেইলি প্রেস ডেস্ক: আর্ত-মানবতার সেবায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া মানবজীবনের এক মহান দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবানদের এই মহান দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি চালু করেছে একটি অনন্য উদ্যোগ মুদারাবা ওয়াক্ফ ক্যাশ জমা হিসাব।
এই হিসাবটি সাদাকায়ে জারিয়া বা চলমান সদকার একটি আধুনিক ও সহজ রূপ। একবার জমা দেওয়া দানের অর্থ ব্যাংকে মূলধন হিসেবে সংরক্ষিত থাকে এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফা শরীয়াহসম্মত বিভিন্ন কল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হয়।
গ্রাহক ন্যূনতম ১,০০০ টাকা জমা দিয়ে এ হিসাব খুলতে পারবেন। পুরো অর্থ এককালীন বা কিস্তিতে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ জমা হলে গ্রাহককে দেওয়া হয় একটি ক্যাশ ওয়াক্ফ সার্টিফিকেট।
এই হিসাব পরিচালিত হয় মুদারাবা নীতির ভিত্তিতে। অর্থ বিনিয়োগ করা হয় ব্যাংকের নির্ধারিত লাভজনক খাতে অথবা গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী শরীয়াহসম্মত খাতে। অর্জিত মুনাফা গ্রাহকের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত কল্যাণমুখী কাজে ব্যয় করা হয়। বর্ষপূর্তিতে মুনাফা প্রদান করা হয়, তবে চাইলে মাসিক হারে প্রাক্কলিত মুনাফা গ্রহণের ব্যবস্থাও রয়েছে।
হিসাব খোলার যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া:
১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক এই হিসাব খুলতে পারেন
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি ও সদ্য তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো শাখা, উপশাখা বা এজেন্ট আউটলেটে এই হিসাব খোলা যাবে
এছাড়াও প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, ক্লাব, সমবায় সমিতি, সোসাইটি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-এর পক্ষ থেকেও এই হিসাব খোলা যায়। এক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে প্রতিষ্ঠানের দলিলপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, ডিড অব ট্রাস্ট ও ট্যাক্স সার্টিফিকেট। অভিভাবক নাবালকের পক্ষেও এই হিসাব খুলতে পারবেন।
অতিরিক্ত সুবিধাসমূহ:
গ্রাহকের ব্যক্তিগত সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব থেকে প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তি জমা দেওয়ার সুবিধা
অনলাইন, মোবাইল ব্যাংকিং (সেলফিন অ্যাপ) ও আইব্যাংকিং ব্যবহার করে সহজেই অর্থ জমা দেওয়া যায়
বৈদেশিক মুদ্রায়ও ওয়াক্ফ হিসাব খোলা ও পরিচালনা সম্ভব
গ্রাহকের মৃত্যুর পর, ওয়াক্ফ হিসাবের মুনাফা তার নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা হয়। ঘোষিত পূর্ণ অর্থ জমা না হলে, প্রয়োজনে মৃতের উত্তরাধিকারীগণ বাকি অর্থ জমা দিতে পারবেন।