1. admin@dailypressbd.com : ডেইলি প্রেস ডেস্ক :
থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধের কারণ কী? - DAILY PRESS
সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধের কারণ কী?

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৭ বার পড়া হয়েছে
সম্পাদিত ছবি

ডেইলি প্রেস ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা নতুন নয়। কয়েক দশক ধরে চলা এই বিরোধ মাঝেমধ্যেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সম্প্রতি আবারও দুই দেশের সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, নিহত হয়েছেন সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাচীন হিন্দু মন্দির প্রোহ ভিহার (Preah Vihear) ঘিরেই এই বিরোধের সূচনা। খ্রিষ্টীয় একাদশ শতাব্দীতে নির্মিত এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার সীমান্তে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত।

১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত- আইসিজে রায়ে জানায়, মন্দিরটি কাম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে অবস্থিত। রায় প্রকাশের পর থাইল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিলেও, মন্দির সংলগ্ন জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে যায়। এই ভূখণ্ড ঘিরে দুই দেশের সেনাবাহিনী মাঝে মাঝেই মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

২০০৮ সালে উত্তেজনা নতুন করে শুরু হয়, যখন কাম্বোডিয়া প্রোহ ভিহার মন্দিরকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নেয়। থাইল্যান্ড দাবি করে, এ উদ্যোগ তাদের ভূখণ্ডের ওপর একপ্রকার হস্তক্ষেপ। এর পর থেকেই সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনা নিয়মিত ঘটে চলেছে।

দুই দেশের মধ্যে ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্তের বড় একটি অংশ আজও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত নয়। ফরাসি ঔপনিবেশিক আমলের মানচিত্র ও সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ব্যাখ্যার পার্থক্য থাকায় সীমান্ত নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এই বিরোধকে জিইয়ে রাখছে। অভ্যন্তরীণ সংকট বা জনমত প্রভাবিত করতে দুই দেশই জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগিয়ে সীমান্তে কঠোর অবস্থান নেয়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সংঘর্ষ নতুন মাত্রা নেয়, যখন দুই দেশ একে অপরকে ‘আগ্রাসন’ ও ‘অবৈধ হামলার’ জন্য দায়ী করে। থাইল্যান্ড জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ তোলে, কাম্বোডিয়া তাদের ভূখণ্ডে মাইন পুঁতে রেখেছে। অপরদিকে, কাম্বোডিয়া দাবি করে, থাইল্যান্ড তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে।

আসিয়ান (ASEAN) জোটের বর্তমান চেয়ার ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উভয়পক্ষকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখনো পর্যন্ত স্থায়ী শান্তির কোনো সুরাহা হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যতদিন পর্যন্ত দুই দেশ আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে না নেবে ও সীমান্ত চিহ্নিতকরণে সম্মত না হবে, ততদিন এই সংঘাত থামার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত খবর:
© 2025 Daily Press | KFAST Media | All Rights Reserved