ডেইলি প্রেস ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া পড়েছে। নির্বাচনের ২৮টি পদের বিপরীতে মোট ৬৫৮টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে।
এর মধ্যে শুধুমাত্র শেষ দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিক্রি হয়েছে ৯৩টি ফরম। আগের আট দিনে বিক্রি হয়েছিল ৪৪২টি ফরম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজারের বেশি। সেই হিসাবে প্রতি একশ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১.৭৮ জন ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বিক্রি হওয়া ৬৫৮টি মনোনয়ন ফরমের মধ্যে জমা পড়েছে মাত্র ১০৬টি। এর পাশাপাশি হল সংসদ নির্বাচনের জন্য বিক্রি হয়েছে আরও ১ হাজার ৪২৭টি ফরম।
হলভিত্তিক মনোনয়ন ফরম বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে, মোট ১১২টি। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ফরম বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে, মাত্র ৩৩টি। এ ছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে বিক্রি হয়েছে ৭৩টি, জগন্নাথ হলে ৭৪টি, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৮৬টি, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ১০০টি, রোকেয়া হলে ৫৩টি, সূর্যসেন হলে ৯৫টি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৮০টি, শামসুন নাহার হলে ৪২টি, কবি জসীম উদ্দীন হলে ১০৬টি, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ৯৮টি, শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৭৯টি, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৩৯টি, অমর একুশে হলে ৯১টি, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৮৮টি, বিজয় একাত্তর হলে ৯৬টি এবং স্যার এ এফ রহমান হলে বিক্রি হয়েছে ৮২টি মনোনয়ন ফরম।
বুধবার (২০ আগস্ট) মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর পরেই জানা যাবে কোন পদে কতজন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন। নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৫ আগস্ট। পরের দিন ঘোষণা করা হবে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ব্রিফিংয়ে আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচনে কেবল বৈধ শিক্ষার্থীরাই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এখানে কোনো প্রার্থী দলীয় পরিচয়ে মনোনয়ন নেননি। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত যদি কোনো প্রার্থীর নাম অপরাধীর তালিকায় পাওয়া যায়, তবে তাকে প্রার্থিতা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকবে।