ডেইলি প্রেস ডেস্ক: বিদেশ ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট ও ভিসা প্রয়োজন হলেও কিছু দেশের পাসপোর্ট এতটাই শক্তিশালী যে সেগুলোর নাগরিকরা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স সম্প্রতি ২০২৫ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করেছে। গত ১৮ জুলাই প্রকাশিত এ তালিকায় দেখা গেছে, সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট ধারকেরা ১৯৩টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন, যা এই বছরও দেশটিকে শীর্ষস্থানে রেখেছে।
শীর্ষ দশ দেশের তালিকা অনুযায়ী প্রথম অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর, যাদের পাসপোর্টধারীরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিশ্বের ১৯৩টি দেশে অনায়াসে প্রবেশ করতে পারেন। তবে আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন, উত্তর কোরিয়াসহ কিছু দেশে এখনো আগাম ভিসার প্রয়োজন পড়ে।
দ্বিতীয় অবস্থানে যৌথভাবে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, দুই দেশই ১৯০টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ দেয় তাদের নাগরিকদের। একসময় শীর্ষে থাকা জাপান এ বছর দুই ধাপ নিচে নেমেছে, তবে তাদের প্রভাব এখনো ব্যাপক।
তৃতীয় অবস্থানে একসঙ্গে রয়েছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও ইতালি। এ দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা ১৮৯টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে সক্ষম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় এ দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা তুলনামূলক কম।
বিশ্লেষণ বলছে, এশিয়ার দেশগুলো. বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বৈশ্বিক ভ্রমণ নীতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখা, স্থিতিশীল পররাষ্ট্রনীতি এবং কূটনৈতিক শক্তির কারণে বারবার শীর্ষস্থান অর্জন করছে।
অন্যদিকে, তালিকার নিচের দিকে রয়েছে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশের মতো দেশগুলো। বাংলাদেশ যদিও এবারের সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে, তবুও এখনো ভিসা-নির্ভরতা অনেক বেশি। হেনলি সূচকে শক্তিশালী পাসপোর্ট মানে শুধু ভ্রমণ সুবিধাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
সাম্প্রতিক এই তালিকাটি আবারও প্রমাণ করেছে, একটি দেশের পাসপোর্ট কতটা শক্তিশালী তা নির্ধারণে কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক আস্থার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পাসপোর্টের এই সূচক অনেকের জন্য ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।